আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। হরমুজ প্রণালী-কে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ীভাবে ছাড় দিয়েছে ইরান-এর তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকে। এর ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা একাধিক জাহাজ আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, যারা আমদানিকৃত তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল, তারা দ্রুত এর সুফল পেতে পারে। পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে ফিরবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালী-এ উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এই অঞ্চলে অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক বাজারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব বড়সড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব-এর কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক হলে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক বাজার ও সাধারণ ভোক্তাদের উপর।