দেবাশিস পাল, মালদা : ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু তরতাজা যুবকের। ক্ষোভে ফুঁসছে মালদার ইংরেজবাজারের মোবারকপুর গ্রাম। ২১ বছরের প্রসেনজিৎ মণ্ডলের নিথর দেহ গ্রামে ফিরতেই শোকের আবহ যেন রূপ নিল ক্ষোভের বিস্ফোরণে। প্রশ্ন একটাই—কোথায় জনপ্রতিনিধি? কোথায় প্রশাসন? দুই মাস আগেই পরিবারকে দু’মুঠো খাবার জোগাতে মুম্বইয়ের পুনেতে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। দিনমজুরের কঠিন জীবনে লড়াই করছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্নই থেমে গেল হঠাৎ করে। সহকর্মীদের দাবি, প্রতিদিনের মতো কাজ সেরে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমোতে যান তিনি। পরদিন ভোরে তাঁকে ডাকতে গিয়েই দেখা যায়, আর কোনও সাড়া নেই। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন প্রসেনজিৎ।
প্রশ্ন, এই মৃত্যুর দায় কে নেবে? পরিবারের দাবি, ছেলের মৃত্যুর পর প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য তো দূরের কথা, খোঁজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। পরিবারে রয়েছেন মা-বাবা ও এক দাদা। একমাত্র উপার্জনকারী ছিল প্রসেনজিৎ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে প্রধান—সকলেই ঘটনাটি জানেন। অথচ মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ন্যূনতম মানবিকতাটুকুও দেখানো হয়নি। বারবার আবেদন জানিয়েও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য। না আর্থিক সহায়তা, না কোনও আশ্বাস—শুধুই নীরবতা।
এমনকি প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। একজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু কি এতটাই তুচ্ছ যে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সময় নেই প্রশাসনের? ভোটের সময় দরজায় দরজায় ঘোরা নেতারা আজ কোথায়? কেন এই নীরবতা?
গ্রামবাসীদের কথায়, ভোটের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি, আর এখন একটাও মানুষ পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা এখন শুধু ভোট নিয়ে ব্যস্ত, গরিবকে দেখার আর কেউ নেই। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, গরিব মানুষের জীবন আজও রাজনীতির কাছে কতটা মূল্যহীন। প্রসেনজিতের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়েছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। আর সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলছে গোটা এলাকা—জনপ্রতিনিধিরা কি শুধুই ভোটের জন্য? দায়িত্ববোধ কি শুধুই কাগজে-কলমে? এখন দেখার, এই চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি আরেকটি গরিব পরিবারের কান্না চাপা পড়ে যাবে রাজনৈতিক উদাসীনতার আড়ালে।
ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু মালদহের যুবকের, নীরব স্থানীয় প্রশাসন
