উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবসে রবিবার সুন্দরবনের শ্রমজীবী মহিলাদের সমস্যা নিয়ে এক আলোচনা সভা হয়ে গেল কুলতলির দেউলবাড়িতে।এপিডিআরের উদ্যোগে এই আলোচনাসভায় একের পর এক মহিলারা তাঁদের নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সুন্দরবনের শ্রমজীবী মানুষের অধিকাংশই মৎস্যজীবী।এ দিন নামখানার অনিমা মাঝি বলেন, ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ায় ভাই বোনদের নিজের হাতে মানুষকরেছেন। এক ভাই ২০২৩ সালে মৎস্যজীবী হিসেবে গুজরাটে কাজ করতে যান।সেখান থেকে সমুদ্র পথে পাড়ি দেন মাছ ধরার ট্রলারে। দিক হারিয়ে পাকিস্তানের জল সীমানায় চলে যায় ট্রলার। তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে আটক আছে।নেতা মন্ত্রীদের ধরে কোন কাজ হয়নি।কুলতলির চন্দনা নস্কর এলাকার মহিলাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এদিন। বন দফতরের তান্ডবে মহিলারা জীবিকা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।এদিন মৎস্যজীবি অনাদি হালদার বলেন,বন দপ্তর জঙ্গলের ধারে কাছে বে আইনি ভাবে বাক্স বসিয়ে কৃত্রিম মধূ চাষ করছে।ফলে,জঙ্গলের মধূ কমে যাচ্ছে, মৌলেরা প্রাকৃতিক মধূ পাচ্ছেন না।প্রিয়াঙ্কা শিউলি,গৌরি মাইতিরা এলাকার এবড়োখেবড়ো রাস্তার কথা বলেন।সুন্দরবন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা উল্লেখ করেন। এই অনুন্নয়নের কারণে বাঘে আক্রান্ত মৎসজীবী, এলাকার সন্তানসম্ভবা মহিলাদের প্রায় বিনা চিকিৎসায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এপিডিআরের সদস্যরা।এদিনের এই এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এপিডিআরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক রঞ্জিত শূর,রাজ্য সম্পাদক আলতাফ আহমেদ,দ:২৪ পরগনা জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মন্ডল সহ আরো অনেকে।এদিনের আলোচনাসভার মধ্যে দিয়ে নারী দিবসের তাৎপর্য ও তুলে ধরা হয়।
এপিডিআরের উদ্যোগে শ্রমজীবী নারী দিবস পালন করা হলো কুলতলিতে
