Site icon PrimeTime

দক্ষিণে ঝড়-বৃষ্টি, উত্তরে বরফে ঢাকা পাহাড়—পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় বদলে গেল বাংলার আবহাওয়া

2

গরমের দাপট নামার আগেই আচমকা বদলে গেল বাংলার আবহাওয়া। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার দাপট। শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, শনিবার সকালেও তার রেশ স্পষ্ট।

শহর হোক বা জেলা—সর্বত্র ভেজা রাস্তা, মেঘলা আকাশ আর ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে দিন শুরু করেছেন মানুষ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজও দিনভর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে দেখা দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট। এই সময়ে এমন তুষারপাতকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আবহবিদরা। এর জেরে সান্দাকফু ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন।

শুধু দার্জিলিং নয়, উত্তর ও পূর্ব সিকিমেও অব্যাহত তুষারপাত। লাচেন-থাঙ্গু-গুরুদোংমার রুট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্ট যাওয়ার পথও অচল। যদিও চুংথাং থেকে লাচুং ও মঙ্গনের কিছু রাস্তা খোলা রয়েছে, সেখানে সীমিত যান চলাচল চলছে সতর্কতার সঙ্গে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও জারি হয়েছে। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে, যার ফলেই এই বৃষ্টি ও ঝড়ের পরিস্থিতি।

এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গরমের মুখে এই আবহাওয়ার বদল একদিকে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও তুষারপাতের কারণে উদ্বেগও বাড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে।

Exit mobile version