এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ইস্যুতে সরব। শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ধর্নায় দুপুর ২টার কিছু আগে উপস্থিত হন এবং সম্ভবত রাত পর্যন্ত ধর্নায় থাকতে পারেন।
ধর্না মঞ্চ ও পরিবেশ
ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেল চত্বরে তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে:
- মূল মঞ্চ, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন।
- পাশে আরও দুটি সহায়ক মঞ্চ।
ধর্নার সময় মঞ্চের চারপাশে তৃণমূল সমর্থক ও নেতা-নেত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
মুখ্যমন্ত্রী আগেও SIR ইস্যুতে পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন।
- দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সঙ্গে দেখা করে নালিশ জানিয়েছিলেন।
- দেশের শীর্ষ আদালতে নিজে বক্তব্যও রেখেছিলেন।
মমতার অভিযোগ: ভোটার তালিকায় বৈষম্য
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একযোগে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন:
“কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।”
বর্তমানে ৬৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন।
পূর্ব ইতিহাস ও প্রসঙ্গ
অনেকে আজকের ধর্নাকে ২০০৬ সালের সিঙ্গুর আন্দোলন এবং পরবর্তী বড় আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন।
- ২০০৬ সালে ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ২০১৯ সালে সারা দেশে পুলিশ হানা ও সারদা মামলার প্রতিবাদে ধর্না।
এবার পরিস্থিতি নতুন:
- ভোটার তালিকায় বড় পরিবর্তন।
- রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি।
- ৭ মে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন:
“এরপর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে। উনি বিরোধী দলনেত্রী হবেন। মাঝেমাঝেই ধর্না দিতে হবে, এখন থেকেই প্র্যাকটিস করছেন।”
- পাল্টা কটাক্ষ করেছেন ফিরহাদ হাকিম:
“বিজেপি বাংলায় কোনওদিন আসবে না। বাংলায় সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনও স্থান নেই।”
এসআইআর ইস্যুতে মমতার ধর্না শুধুমাত্র ভোটার অধিকার রক্ষার বার্তা নয়, এটি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ভোটার তালিকা ও ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের ভাগ্য রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
