সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো সম্ভব নয় বলে জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ বিষয়ে নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে আরও সময় চেয়েছে রাজ্য। আবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের আগে বকেয়া ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ এরিয়ার-সহ দেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোও বাস্তব পরিস্থিতিতে কঠিন বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্যের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ পাওয়ার দাবিতে মোট ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন সরকারি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের বকেয়া হিসাব যাচাই করে নির্ধারণ করতে সময় লাগবে বলেই আদালতে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, সব পেনশনভোগীর সম্পূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে নেই। এই তথ্য মূলত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর দফতরে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছে রাজ্য। সরকারের দাবি, এআইসিপিআই (All India Consumer Price Index) অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করা হয়। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতনের নথি কেবল ২০১৬ সাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তার আগের সমস্ত তথ্য খুঁজে বের করতে হাতে লেখা সার্ভিস বুক পরীক্ষা করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ।
রাজ্যের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ মেটানো অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের উপর। পাশাপাশি সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এত অল্প সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা কার্যত অসম্ভব বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যকে প্রথমে ২৫ শতাংশ ডিএ এরিয়ার-সহ দিতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে।
এই নির্দেশের পর থেকেই আন্দোলনে থাকা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, আদৌ রাজ্য সরকার ডিএ দেবে কি না। সেই বিষয়ে তারা একটি স্মারকলিপিও জমা দেয়। যদিও সরাসরি নবান্নে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমেই তা পাঠানো হয়।
এর মধ্যেই আবার সুপ্রিম কোর্টে সময় চেয়ে নতুন আবেদন করায় ডিএ ইস্যু ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
