নিপায় প্রথম মৃত্যু রাজ্যে, বারাসতে প্রাণ হারালেন নার্স

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক নার্সের। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর ফুসফুসে সেকেন্ডারি সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রয়াত হন ওই স্বাস্থ্যকর্মী।

একই হাসপাতালে নিপা আক্রান্ত আরও এক নার্স ভর্তি ছিলেন। স্বাস্থ্য দফতর আগেই জানিয়েছিল, রাজ্যে নতুন করে আর কোনও নিপা সংক্রমণের খবর মেলেনি। আক্রান্ত দুই নার্স কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করা হয়। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সব নমুনাই নেগেটিভ এসেছে বলে স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে খবর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাসের মূল উৎস ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল বা তার সংস্পর্শে থাকা ফলের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুয়োর থেকেও ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বিছানা, জামাকাপড় বা অন্যান্য সামগ্রী থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, প্রাথমিকভাবে নিপার উপসর্গ সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো হলেও এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি—প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই। আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উপরই চিকিৎসার ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে।

স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *