লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ডিএ-তেই চোখ বাংলার! ভোটের বছরে নবান্নের বাজেটে কতটা চমক?

আজ রাজ্য বাজেট। কিন্তু বাজেট মানেই আর উন্নয়ন, শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থানের বিশদ রূপরেখা—এই ধারণা ক্রমেই ফিকে হয়ে এসেছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের গত কয়েকটি বাজেট খতিয়ে দেখলে অর্থনীতিবিদদের একাংশের অভিযোগ, মূলধনী খাতে বড়সড় বরাদ্দ বা নতুন শিল্পের স্পষ্ট দিশা খুব একটা চোখে পড়েনি।ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজ্য বাজেট নিয়ে কৌতূহল এখন কার্যত সীমাবদ্ধ দু’টি প্রশ্নেই—

👉 লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কত টাকা বাড়বে?

👉 মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বাড়বে কত শতাংশ?এ বারও যে সেই প্রশ্নদুটিই বাজেট আলোচনার কেন্দ্রে, তা নবান্নের অন্দরমহল থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে আলোচনাতেই স্পষ্ট।

🔸 ভোটের বছরে নবান্নের সামনে বড় চ্যালেঞ্জটানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আরও একবার ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ডিএ-র গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন কী প্রতিশ্রুতি বা ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা যায়, সেটাই আজকের বাজেটের আসল পরীক্ষা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।তবে এ বার পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়। সরকারের বর্তমান মেয়াদ রয়েছে আগামী মে মাস পর্যন্ত। ফলে বৃহস্পতিবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পেশ করবেন ভোট অন অ্যাকাউন্ট।🔸 ডিএ ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়তি বরাদ্দের ইঙ্গিতনবান্ন সূত্রে খবর, আগের মতো এ বারও থাকতে পারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা। সব ঠিক থাকলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা অন্তত ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।একই সঙ্গে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে আরও দৃঢ় করতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড়সড় বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনাও প্রবল। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, মাসিক অনুদান সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। ভোটের বছরে সেই অঙ্ক যে আরও বাড়বে, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

🔸 আরও কারা পেতে পারেন সুখবর?

শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়—অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধিহোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বাড়ানোপুলিশের নিয়োগ সংক্রান্ত ইঙ্গিতপুর কর বা মধ্যবিত্তদের স্বস্তিতে করছাড়এই সব ক্ষেত্রেও বাজেটে সুখবর থাকতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে দাবি।

🔸 নতুন প্রকল্পই কি বাজেটের আসল চমক?রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট-বাজেটের আসল চমক আসতে পারে একেবারে নতুন কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে। আবাস, স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর রাজ্য সরকার নতুন কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে।পাশাপাশি রাস্তাঘাট নির্মাণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো খাতে বরাদ্দ বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

🔸 কেন্দ্র বনাম রাজ্যের রাজনীতিকেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য বড় কোনও বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ আগেই তুলেছে শাসক দল। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য বাজেটকে ‘কেন্দ্রের বঞ্চনার জবাব’ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে নবান্ন—এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

🔸 শেষ মুহূর্তের চমক?

নবান্নে এখনো ঘুরছে ২০২৪ সালের সেই ‘চিরকুট-কাণ্ড’-এর গল্প। বাজেট চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তলিখিত নোট দেখে শেষ মুহূর্তে ডিএ ঘোষণার নজির রয়েছে। ফলে এ বারও বাজেট পেশের সময় অপ্রত্যাশিত কোনও ঘোষণা আসতে পারে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রশাসনের দুঁদে আমলারাও।সব মিলিয়ে, আজ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট বই খুললেই স্পষ্ট হবে—ভোটের বছরে নবান্ন শুধু ভাতা বাড়াল, না কি তার সঙ্গে সত্যিই নতুন কোনও দিশাও দেখাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *