📍 কলকাতা | বিধানসভা রিপোর্ট
রাজ্যপালের ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বুধবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে একাধিক ইস্যুতে সরাসরি সংঘাত হয়। কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা, অনুপ্রবেশ, এসআইআর বিতর্ক, ভোটার তালিকা ও জমি সমস্যা— সব মিলিয়ে অধিবেশনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
💰 কেন্দ্রীয় অর্থ নিয়ে বিরোধ
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে ২ লক্ষ টাকা দিয়েছে। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুর সময় কেন্দ্র আর্থিক সহায়তা দেয়নি। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কার্যকারিতা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
🛣️ উন্নয়ন ও প্রকল্প প্রসঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং তার মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে মোট ২ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র গান্ধীর নামে থাকা একাধিক প্রকল্প বন্ধ করেছে।
🚧 জমি দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন
জমি সংক্রান্ত অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেল ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকার দিয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন না হলে নতুন করে জমি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
🌍 অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তীব্র মতভেদ
অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার কাঠামো বদলের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে জমি না পাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে কেন্দ্র বারবার রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে।
পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতির নির্দিষ্ট প্রমাণ কোথায়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন একই ভোটার তালিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
🏛️ রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে বিতর্ক
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্যপাল বিধানসভায় পুরো ভাষণ পাঠ করেননি এবং নির্ধারিত বিষয় এড়িয়ে দ্রুত বক্তৃতা শেষ করেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র-বিরোধী অংশ পড়তে অনিচ্ছা থেকেই এমনটি হয়েছে।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্য রেখে গিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয় তিনি প্রকাশ্যে আনতে চান না।
📑 এসআইআর বিতর্ক ও স্পিকারের সিদ্ধান্ত
এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে আলোচনার দাবি উঠলেও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় বিধানসভায় তাৎক্ষণিক আলোচনা সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের আগে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে এসআইআর নিয়ে আলোচনা করা হবে।
🗳️ ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
📢 স্লোগান ও উত্তেজনার মধ্যেই অধিবেশন
জাতীয় সঙ্গীতের পর বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। স্লোগান-পাল্টাস্লোগানের মধ্য দিয়েই দিনের অধিবেশন শেষ হয়।
