প্রয়াত বর্ষিয়ান পরিচালক পার্থ ঘোষ, সিনে পাড়ায় শোকের ছায়া

প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক পার্থ ঘোষ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। জানা গিয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বর্ষিয়ান পরিচালকের। তাঁর মৃত্যুর খবর দিয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এই পরিচালকের হাত ধরেই বলিউডে ডেবিও করেছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। নয়ের দশকে তাঁর পরিচালিত একাধিক হিন্দি ছবি দর্শক মহলে দারুন সাড়া ফেলেছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে “হান্ড্রেড ডেজ”, “দালাল”, “তিসরা কৌন”, “গীত”, “অগ্নিসাক্ষী”, “জীবন যুদ্ধ”, “গোলাম-এ-মুস্তাফা”, “যুগ পুরুষ”, “রহমৎ আলি”, “খোট্টে সিকে” সহ একাধিক ছবি। সামাজিক বিষয় নির্ভর ছবির জন্য পৃথক ধরনের একটি দর্শকমহল সৃষ্টি করেছিলেন পার্থ ঘোষ।বহু বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁর ছবিতে কাজ করেছেন।
পার্থ ঘোষকে নয়ের দশকের অন্যতম সেরা পরিচালকদের একজন বলে মনে করা হয়। ছবির ভাষায় সমাজের অনেক কথা বাস্তবের পটচিত্রে তুলে ধরতেন তিনি।‘হান্ড্রেড ডেজ’ ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতকে এক নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছিলেন পার্থবাবু। তেমনই ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে দেখা মিলেছিল আরেক প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী মণীষা কৈরালার। ১৯৯৩ সালে মিঠুন চক্রবর্তী ও আয়েষা জুলকাকে নিয়ে তৈরি করেন ‘দালাল’ ছবি।ভিন্ন ঘরানার কাহিনির জন্য এই ছবি নিয়ে সেই সময় খুব বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
পার্থবাবুর শেষ হিট ছবি ছিল ‘গুলাম-এ-মুস্তাফা’। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। রবীনা ট্যান্ডন ও নানা পাটেকর ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন। তারপরে তিনি আরও বেশ কয়েকটি ছবি তৈরি করলেও সেগুলি তেমন ভাবি সফল হয়নি। ছবি ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি হিন্দি ও বাংলা টিভি শো পরিচালনা করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি ‘হান্ড্রেড ডেজ’এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’র দ্বিতীয় পর্বের কাজ করছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যুতে সবকিছু থমকে গেল।
পার্থবাবু থাকতেন মুম্বইয়ের মাড আইল্যান্ড এলাকায়। বলিউডে আসার আগে তিনি কয়েকটি বাংলা ছবিও করেছেন। জ্যাকি শ্রফ, মাধুরী দীক্ষিত, মুনমুন সেন, জাভেদ জাফরির মতো খ্যাতনামা অভিনেতারা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। পার্থবাবু ১৫টির বেশি ছবি পরিচালনা ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *