উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গার উপর নৌকায় ইফতার করার একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, ইফতারের সময় নন-ভেজ খাবারের অবশিষ্টাংশ গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, পঞ্চগঙ্গা ঘাটের কাছে নৌকায় বসে ইফতার করার দৃশ্যটি ভিডিওতে ধরা পড়ে এবং তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায়। এরপর রাজত জয়সওয়াল নামে এক ব্যক্তি কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ১৪ জনকে মঙ্গলবারের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভিডিওর সত্যতা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র মতবিরোধ তৈরি করেছে। একাংশের মত, গঙ্গাকে পবিত্র নদী হিসেবে সম্মান জানাতে এমন কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—গঙ্গা দূষণের বৃহত্তর সমস্যার মধ্যে শুধুমাত্র এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থা নেওয়া কতটা যৌক্তিক।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, প্রতিদিনই গঙ্গায় নর্দমার জল, প্রতিমা বিসর্জন এবং অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হয়। সেই সব ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি না থাকলেও, এই ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত মন্তব্য না এলেও, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র আইনগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও পরিবেশগত বিতর্কের দিকেও নতুন করে আলো ফেলেছে।
