উত্তরপ্রদেশে সৌর-বিপ্লব: ৪০০ থেকে ৫০০০ মেগাওয়াট, বড় লক্ষ্যে যোগী সরকার

গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৭ সালের আগে যেখানে রাজ্যের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪০০…

10

গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৭ সালের আগে যেখানে রাজ্যের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪০০ মেগাওয়াট, বর্তমানে তা বেড়ে ৫০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সরকারি উদ্যোগ ও জনভাগীদারির সমন্বয়ে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ‘পিএম সূর্য ঘর মুফৎ বিজলি যোজনা’। সরকারি ভর্তুকির সুযোগ নিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কমে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনে আরও বড় লক্ষ্য নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। ২০২২ সালের সৌরশক্তি নীতি অনুযায়ী, রাজ্যে ২২,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি ভবনগুলিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু সৌরবিদ্যুৎ নয়, নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাতে শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ। গোরক্ষপুরে টরেন্ট পাওয়ার এবং রামপুরে জিরো ফুটপ্রিন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।

এই উদ্যোগে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। সৌরশক্তি এখন আর শুধু আলো জ্বালানোয় সীমাবদ্ধ নয়—রান্না থেকে ইলেকট্রিক যানবাহন চার্জিং পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়ছে। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের এই ‘সৌর-বিপ্লব’কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।