রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন জৈশ, পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংঘটিত লালকেল্লা বিস্ফোরণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই নিষিদ্ধ সংগঠনটিকে এখনও সক্রিয় এবং কার্যক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের জমা পড়া ৩৭তম পর্যবেক্ষণমূলক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ ও আর্থিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জৈশ-ই-মহম্মদ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়নি। বরং সংগঠনটি নতুন শাখা গঠন এবং ভিন্ন নামে কার্যক্রম চালিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক জিহাদি সংগঠনের সক্রিয়তা নিয়েও সেখানে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত একটি সদস্য দেশ জৈশ-ই-মহম্মদকে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় রাখার বিরোধিতা করেছিল। যদিও সরাসরি নাম না থাকলেও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সেই দেশ পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে জৈশ কার্যত বিলুপ্ত। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জের নথিতে বলা হয়েছে, অতীতের দমনমূলক পদক্ষেপের পরেও সংগঠনটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

গত ৯ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় যে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হন, সেই ঘটনায় জৈশের সংশ্লিষ্টতার কথাও রিপোর্টে উঠে এসেছে। তার আগেই ৮ অক্টোবর সংগঠনের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার আলভি নারীদের জন্য ‘জামাত-উল-মুমিনত’ নামে একটি শাখা গঠনের ঘোষণা দেয় বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। নতুন করে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের এই পর্যবেক্ষণ ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও গুরুত্ব দিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত। ফলে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে অসঙ্গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বমঞ্চে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *