পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে নবীনচন্দ্র বাগের নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিদ্রোহ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রার্থীকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। ফলে নির্বাচনের মুখে ব্লক সংগঠনের ভেতরেই বড়সড় বিভাজনের ইঙ্গিত মিলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই খণ্ডঘোষ ব্লকে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ দ্রুত বাড়তে থাকে। স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন তাদের মতামত বা দাবি গুরুত্ব না দিয়েই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের নীচুতলার সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই দলীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে ‘অদূরদর্শী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এই ক্ষোভের জেরে এক রাতের মধ্যেই গণ-পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, অন্তত ৬ জন অঞ্চল সভাপতি, ১২ জন পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান এবং প্রায় ২০ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য একযোগে তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অভিযোগ, যারা সারা বছর সংগঠনের জন্য পরিশ্রম করেন তাদের গুরুত্ব না দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। এর ফলে খণ্ডঘোষে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত বড়সড় চাপে পড়েছে।
খণ্ডঘোষ ব্লকের সভাপতি অপার্থিব ইসলামও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের প্রতি অনুগত কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে অনেকেই ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে বহু নেতা-কর্মী নবীনচন্দ্র বাগের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ আপাতত সংগঠনের কাজ থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন।
এদিকে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় অন্দরের দুর্নীতির অভিযোগই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে শাসক দলের এই ধরনের ভাঙন ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে সংগঠনের মধ্যে এই ধরনের বড়সড় অসন্তোষ শাসক দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ফের সংগঠনে সক্রিয় করতে পারে কিনা।
