ভোটের আগে প্রকাশিত সাম্প্রতিক সমীক্ষা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমীক্ষা বলছে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ২০০ আসনের গণ্ডি পেরোতে পারবে না। এই পূর্বাভাস ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে উঠছে বড় প্রশ্ন—তাহলে কি কমছে শাসক দলের জনপ্রিয়তা?
CNN-News18-এর ট্র্যাক করা সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল এখনও এগিয়ে থাকলেও আগের তুলনায় তাদের আসন সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আগের থেকে ভালো ফল করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন। যা স্পষ্টভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক উপরে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। বাকি আসন ১ থেকে ৩টির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোট শতাংশের নিরিখেও তৃণমূল এগিয়ে। সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূলের ভোট শেয়ার প্রায় ৪১.৯%, যেখানে বিজেপির ভোট শেয়ার ৩৪.৯%। এই ব্যবধানই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান, এই প্রশ্নেও স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪৮.৫% মানুষ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করছেন। অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতা সুভেন্দু অধিকারী-কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৩৩.৪% ভোটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমীক্ষা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভ এবং বিরোধীদের সংগঠনের জোর—এই দুই কারণেই এই পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখনও এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিরোধী শিবিরের মুখ সুভেন্দু অধিকারী-র গ্রহণযোগ্যতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ।
ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে বেকারত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এই বিষয়গুলিই নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও সমীক্ষা চূড়ান্ত ফলাফল নয়, তবুও ভোটের আগে এই রিপোর্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, বাস্তব ফলাফলে এই প্রবণতা কতটা প্রতিফলিত হয়।



