Site icon PrimeTime

”এটা প্রিপ্ল্যানড কম্যুনাল রায়ট’’, বিরোধীদের তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

WhatsApp Image 2025 04 16 At 12.33.19 PM 1024x536

ওয়াকফ (Waqf) সংশোধনী আইন নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সেই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্য়ের ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা। আজ সেই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে কলুষিত করার দায় চাপালেন বিরোধীদের ওপর। তিনি বলেন, এ রাজ্যে নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন কার্যকর হবে না।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”ইদের পর একটি বৈঠক করার কথা আগেই হয়েছিল। ৭ এপ্রিল সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে পিছিয়ে ১৬ তারিখ করা হয়। এই বৈঠক আমি ডাকিনি। ইমামরা আমাকে ডেকেছেন। আমরা এসেছি। তৃণমূল কংগ্রেস যদি অশান্তি করত, তাহলে তৃণমূলের তিন বিধায়কের বাড়ি আক্রান্ত হত না। পার্টি অফিসও ভাঙা হত না। কিছু প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে গণ্ডগোল হয়েছে, সেটা মুর্শিদাবাদ আসন নয়, মালদহের আসন। কংগ্রেসের জেতা আসন। জেতার সময় জিতবে। দাঙ্গা হলে রাস্তায় বেরবে না, এটা আশা করি না। জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকতে হবে। আমি উস্কানিমূলক কথা বলতে আসিনি। বাংলায় ওয়াকফ আইন রয়েছে ১৯৩৪ সালের। ১৯৫৪-তে জাতীয় ওয়াকফ আইন তৈরি হয়। আর সম্প্রতি ২০২৫-এ সংশোধনী আইন হল। আমার যেমন যে কোনও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অধিকার নেই। তেমন আপনারও অধিকার নেই কারও ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় সম্পত্তি অধিকার করা। আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা বুঝি, বাবাসাহেব আম্বেদকর তফশিলি জাতির হয়েও সংবিধানের ড্রাফ্টিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।” সেই মমতার দাবি, সংবিধান ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।”

রাজ্যজুড়ে অশান্তির প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, “বিজেপির কথায় দয়া করে অশান্তি করবেন না। কেউ অশান্তি করলে কন্ট্রোল করুন।” তাঁর প্রশ্ন, ওয়াকফ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে এত তাড়াহুড়ো করার কী ছিল। সংবিধানে ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে যে কোনও ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে সম্পত্তি অর্জন ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকারও দেওয়া হয়েছে। আপনি আমার অধিকার কাড়ছেন। রাম-রহিম সবার অধিকার কাড়ছেন।” বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ”আপনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি তো জানতেন। বাংলাদেশ তো রাজ্যের সীমান্তে। আপনি ইউনূসের সঙ্গে গোপন মিটিং করুন। দেশের ভাল হলে খুশি হব। কিন্তু আপনাদের প্ল্যানিংটা কী। কোনও এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে এসে দাঙ্গা করা! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র বলছে, বাংলাদেশের হাত আছে। বিএসএফ তো বর্ডার সামলায়। সেখানে কোনও অধিকার আমার নেই, রাজ্য সরকারের কাছে নেই। আপনি কেন ঢুকতে দিলেন। কৈফিয়ত আপনাকে দিতে হবে। আপনারা চান ভেদাভেদ তৈরি করতে। মুসলিম ভাইবোনদের বলব, এই আইনি সংবিধানে যে সম্পত্তির অধিকারের কথা আছে, তা ভেঙেছে। সংবিধানে ১৮ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে সম্পত্তির উপর রাজ্য সরকারের অধিকারের কথা বলা আছে। সেটা রাজ্য বিধানসভার এক্তিয়ারভুক্ত। সেই অধিকারও কেড়ে নিয়েছে এই আইনের মাধ্যমে। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী।”

Exit mobile version