আজ বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন রাজ্যজুড়েই বিদ্যুৎকেন্দ্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ এপ্রিল শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২১শে এপ্রিল আমি যাব শালবনিতে। শালবনিতে ৮০০ মেগাওয়াট দুটো প্ল্যান্ট হবে। ওখানে জিন্দলরা থাকবেন। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ যাবেন। আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস করব। আর তারপরেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই অনেকগুলো পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ চলছে। এর মধ্যে শালবনীতে ১৬০০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট তৈরি হবে। জিন্দলরা খরচ করছেন ১৬ হাজার কোটি টাকার উপরে। কমপিটিটিভ বিডিংয়ের মাধ্যমে ওঁরা এই প্রোজেক্টের বরাত পেয়েছেন। পূর্বভারতে এমন প্রোজেক্ট আর নেই। এছাড়া ঝাড়গ্রাম -পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হবে। আমরা ৬টি ইকোনোমিক করিডোর করেছি। শিল্পের নতুন গন্তব্য এখন বাংলা। সাগরদিঘি থেকে শুরু করে দুর্গাপুর, বক্রেশ্বর থেকে শুরু করে সান্তালডি প্রচুর মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে অর্থনীতি অনেক মজবুত হবে, অনেক কর্ম সংস্থান হবে।” তিনি জানান, ”২২ তারিখে গড়বেতার গোয়ালতোড়ে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একটি জার্মান কোম্পানির সহায়তায়, ৭৫৭ কোটি টাকার এই গ্রিন প্রোজেক্ট হচ্ছে।”
বাম জামানকে নিশানা করেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”এই সরকারের আমলে বাংলার মানুষ ‘লোডশেডিং’ শব্দটা ভুলেই গেছে। নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার সাপ্লাই করতে সরকারেরও অনেক খরচ হয়। আগামী প্রজন্ম যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে যেন কোনও সমস্যায় না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কথা তুলে তিনি জানান কাজ শুরু হয়ে গেছে, দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। দেওচা পাঁচামি নিয়েও স্থানীয় মানুষদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেন, ”জমিহারাদের প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে, চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও জমি পেলে, ক্ষতিপূরণ দিয়ে, আরও বাড়ানো হবে কাজ। গোটা এলাকা জুড়েই বাজার, হাসপাতাল, স্কুল তৈরি হবে তবে জোর করে কারোর জমি নেওয়া হবে না। এটিই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনি। বিশ্ব এসেছে বাংলার ঘরে।”
