কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ভেঙে ফেলা হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি। বাড়িটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই বাংলার মধ্যে চলছে বিতর্ক। বাড়িটি ভাঙ্গার বিষয় এবার বাংলাদেশের তরফে উল্টো বক্তব্য প্রকাশ্যে এলো যা নতুন করে কৌতূহল তৈরি করছে।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের তরফে আগেই জানান হয়েছিল যে, বাড়ি ভাঙার কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।এবার ময়মনসিংহের জেলা শাসক (ডেপুটি কমিশনার) মোফিদুল আলম বুধবার জানিয়েছেন সরকারি নথি খতিয়ে দেখে প্রমাণিত হয়েছে, ওই বাড়িটি নাকি শিশুকল্যাণ সংস্থার পুরনো অফিসের এবং কোনমতেই সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের সম্পত্তি নয়। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই ভাঙার কাজ হচ্ছিল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি ‘দুর্লভ হাউস’ এখনও অক্ষত রয়েছে। বলা হয়েছে দুর্লভ হাউসের বর্তমান মালিকের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গিয়েছে তাঁরা রায় পরিবারের কাছ থেকেই বাড়িটি কিনেছেন এবং বৈধ নথি রয়েছে। যে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে সেটি সম্পূর্ণ অন্য একটি বাড়ি। ভুলবশতঃ সেটিকে রায় পরিবারের ভিটে বাড়ি বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, বহু বছর এই বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ময়মনসিংহ জেলার অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হত। শিশু অ্যাকাদেমিই বাড়িটি ভেঙে বহুতল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাড়িটির সামনের অংশের প্রায় পুরোটাই ভাঙা হয়ে গিয়েছে। তবে এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ হস্তক্ষেপ করায় আপাতত কাজ বন্ধ আছে। ময়মনসিংহ শিশু অ্যাকাদেমির জেলা শিশুবিষয়ক এক আধিকারিক জানিয়েছেন বাড়িটি এতটাই পুরোনো যে তা ভগ্নপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। সুরক্ষার কথা ভেবেই ২০০৭ থেকে শিশু অ্যাকাদেমি আর বাড়িটি ব্যবহার করত না। এরপর অবশেষে অনুমতি নিয়ে সেখানে বহুতল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের তরফে যদিও এই বিভ্রান্তিকর ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং আশ্বস্ত করা হয়েছে যে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভাঙার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরাসরি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তবে বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙার ঘটনা নিয়ে দুই বাংলায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’। ভগ্নদশা হওয়ার ফলেই সুরক্ষার কথা ভেবে এই বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়েছিল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে নতুন করে সেখানে একটি অত্যাধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
Related Posts
একই সঙ্গে দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৬০টি স্কুলে বোমাতঙ্ক
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কলকাতার দর এবার দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর স্কুলে স্কুলে হুমকি মেইল। শুক্রবার দিল্লিতে কমপক্ষে ২০টি স্কুলে এবং বেঙ্গালুরুতে…
All India Muslim Personal Law Board-এর আপত্তি, ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি
কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত Jana Gana Mana-র আগে ‘বন্দে মাতরম’-এর…
বেঙ্গালুরুতে আবাসনের নিকাশি থেকে মানুষের মাথার খুলি-হাড় উদ্ধার
বেঙ্গালুরুর আবাসনের নিকাশি থেকে উদ্ধার হল মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড়। বেঙ্গালুরুর বেগুর এলাকার নিউ মাইকো লেআউটের ‘এমএন ক্রিডেন্স ফ্লোরা’…
