পূর্ব বর্ধমান: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধছে। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় টিকিট না পাওয়ার পর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
তপন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, প্রার্থী হতে গেলে অর্থের লেনদেন হয়েছে। তাঁর কথায়, “টাকা না দিলে প্রার্থী করা হয় না। আইপ্যাক আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল। যারা দিতে পেরেছে, তারাই টিকিট পেয়েছে।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকায় ৪ জন মন্ত্রী-সহ মোট ৭৪ জন বর্তমান বিধায়কের নাম বাদ পড়ে। এর পর থেকেই একাধিক বিদায়ী বিধায়কের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।
তপন চট্টোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, দলের তরফে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি এবং তাঁর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্য যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেন তাঁর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান।
দলীয় সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তপন চট্টোপাধ্যায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি, পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড মুছে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের নতুন প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয়েছে বসুন্ধরা গোস্বামীর। তিনি এলাকায় গিয়ে বিদায়ী বিধায়কের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছেন। বসুন্ধরা গোস্বামীর বক্তব্য, তপন চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাঁর কাজে লাগবে এবং সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলা বসুন্ধরা গোস্বামী জানান, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তিনি প্রচার চালাবেন। পাশাপাশি, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনের বার্তা নিয়েই তিনি ভোটের ময়দানে নামবেন বলে জানিয়েছেন।
তপন চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
