সুখেন মাহাতো খুন: ১০ দিনের মধ্যে শাস্তির দাবি অভিষেকের, ভাইদের চাকরির আশ্বাস

মহারাষ্ট্রে খুন হওয়া পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হচ্ছে। শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পুরুলিয়ায় সুখেনের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই নিহতের দেহ বাড়িতে পৌঁছয়। শোকস্তব্ধ পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, “১০ দিনের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে মামলাটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হোক, ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখাব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের যেন সহজে জামিন না মেলে, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে। প্রয়োজনে হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

অভিষেকের কথায়, ২০০৯ সাল থেকে সুখেন ও তাঁর দুই ভাই ওই সংস্থায় কাজ করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে কাজে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পুলিশ অসুস্থতার খবর দিলেও, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ খুনের দিকেই। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে বলেই বিশ্বাস তাঁর।

মহারাষ্ট্রে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এক ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও এই ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তসাপেক্ষ, তবুও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁর।

সুখেনের দেহ ফেরানো নিয়েও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ওঠে। অভিষেক জানান, পুনে থেকে মরদেহ ফিরিয়ে আনতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল পরিবারকে। তৃণমূলের উদ্যোগেই অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয় বলে দাবি তাঁর।

এদিকে সুখেনের দুই ভাই এখনও ভিনরাজ্যে কর্মরত। পরিবার তাঁদের আর বাইরে পাঠাতে রাজি নয়। সেই প্রেক্ষিতে অভিষেক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে দুই ভাইয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে, যাতে তাঁরা পুরুলিয়াতেই থাকতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *