Site icon PrimeTime

হরমুজ সংকটের ধাক্কা, রাতারাতি জ্বালানির দাম বাড়ল ২৫%

20260322 120938

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে। রবিবার দেশটির সরকার এক ধাক্কায় প্রায় ২৫% জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। গত দু’সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ানো হলো, যা সাধারণ মানুষের উপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৮১ শ্রীলঙ্কান রুপি বেড়ে ৩১৭ থেকে ৩৯৮ রুপিতে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ডিজ়েলের দামও লিটার প্রতি ৭৯ রুপি বেড়ে হয়েছে ৩৮২ রুপি। শ্রীলঙ্কায় গণপরিবহণের বড় অংশই ডিজ়েলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহেই প্রায় ৮% জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জ্বালানির ব্যবহার ১৫% থেকে ২০% কমানোর লক্ষ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকে সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সপ্তাহে চার দিন কাজের নির্দেশ দিয়েছে এবং যেখানে সম্ভব ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০% হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানের অবস্থানের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ছে।উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শ্রীলঙ্কা সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা তেল ও কয়লার উপর নির্ভরশীল। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশটি, আর কাঁচা তেল আসে মূলত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে।

সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। সেই সময় বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতির কারণে প্রায় ৪৬০০ কোটি ডলারের ঋণে ডুবে গিয়েছিল দেশটি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

এই প্রেক্ষাপটে, নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version