লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে আটক করে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর অধীনে সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনমকে আটক করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সময় অভিযোগ করা হয়েছিল, তিনি ‘অশান্তিতে মদত’ দিচ্ছেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে রাজস্থানের জোধপুর কেন্দ্রীয় জেলে রাখা হয়েছিল। প্রায় ছ’মাস ধরে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।
এই আটকাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বেআইনি ভাবে তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে কেন্দ্র। এই মামলায় তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল।
আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, সোনম ওয়াংচুক নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ভারতে তরুণ প্রজন্মের (জেন জ়ি) মধ্যে বৃহৎ আকারে বিক্ষোভ সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন এবং তাতে মদত দিচ্ছিলেন।
তবে শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লাদাখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সমস্ত পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাদাখের মানুষের স্বার্থে সেখানে বিভিন্ন পক্ষ ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি বন্ধ ও বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর এবং তা পর্যটন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেছে কেন্দ্র।
