স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটে ইতিহাস, দিল্লিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার ডব্লুপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি

বরোদা, ৫ ফেব্রুয়ারি:
হাইভোল্টেজ ফাইনালে আরও একবার হৃদয়ভাঙা দিল্লি ক্যাপিটালসের। টানটান লড়াইয়ে ৬ উইকেটে দিল্লিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লুপিএল) খেতাব জিতে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। স্কোরবোর্ডে ২০০-র বেশি রান তুলেও ট্রফি অধরাই থাকল দিল্লির। টানা চতুর্থবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জেতা হল না তাদের।

আগের তিন মরশুম—২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—ফাইনালে উঠে রানার্স হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল দিল্লিকে। এবছরও সেই ছবিটাই অটুট রইল। অন্যদিকে, পুরুষদের পর মেয়েদের আইপিএলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেল আরসিবি।

ফাইনালের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দ্বৈরথ—স্মৃতি মান্ধানা ও জেমাইমা রডরিগেজ। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে স্মৃতির পাশে দাঁড়াতে বিগ ব্যাশে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জেমাইমা। আর সেই বন্ধুর হাতেই ভেঙে গেল দিল্লির ট্রফি স্বপ্ন।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লিকে দুরন্ত শুরু এনে দেন ওপেনার লিজেল লি ও শেফালি ভার্মা। ১৩ বলে ২০ রান করে শেফালি ফিরলেও, লি করেন ৩০ বলে ৩৭ রান। এরপর ইনিংসের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন জেমাইমা রডরিগেজ। লরা উলভার্টের সঙ্গে জুটি গড়ে রান তোলার গতি বজায় রাখেন তিনি। ৩৭ বলে ৫৭ রান করে আউট হন দিল্লি অধিনায়ক।

শেষদিকে ঝড় তোলেন চিনেল হেনরি। আরসিবির নাদিন ডি’ক্লার্কের করা ১৯তম ওভারে একাই ২২ রান নেন তিনি। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন হেনরি। উলভার্টের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৪৪ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ২০৩/৪।

২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই গ্রেস হ্যারিসকে হারায় আরসিবি। কিন্তু এরপর ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন স্মৃতি মান্ধানা ও জর্জিয়া ভল। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ১৬৫ রানের জুটি কার্যত ম্যাচ দিল্লির হাতছাড়া করে দেয়। শুরুতে সংযত থাকলেও পরে আগ্রাসী মেজাজে ধরা দেন স্মৃতি। অন্যদিকে, দিল্লির বোলারদের ওপর দাপট দেখান জর্জিয়া।

৫৪ বলে ৭৯ রান করে জর্জিয়া আউট হওয়ার পর চাপ বাড়ে আরসিবির উপর। দ্রুত ফেরেন রিচা ঘোষও। এরপর ৪১ বলে ৮৭ রান করে আউট হন স্মৃতি মান্ধানা। সেই ওভারেই রাধা যাদবের ক্যাচ ফেলেন দিল্লির মিনু রানি—যার খেসারত দিতে হয় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে।

শেষ ওভারে রাধা যাদব ব্যাট হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চার হাঁকিয়ে আরসিবিকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন। ৫ বলে অপরাজিত ১২ রান করে ম্যাচের শেষ কথা লেখেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *