“মেদিনীপুরে মমতার ক্ষমতা দেখে নেব”—তমলুকে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ শিশির অধিকারীর, পাল্টা তৃণমূলের তোপ

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু তার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি যেন নির্বাচনী উত্তাপে টগবগ করছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ইতিমধ্যেই সরগরম জেলার রাজনীতি। মঙ্গলবার তমলুকের হরিদাসপুর এলাকায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র সমাপনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারী

সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি, বিজেপি নেতা জেপিএস রাঠোর এবং বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে শিশির অধিকারী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস করে আমি ভুল করেছিলাম। তার জন্য আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।”

এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “মেদিনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কত ক্ষমতা আছে, আমি দেখে নেব। নন্দীগ্রামে আমরা তাঁকে হারিয়েছি। একসময় উনি নন্দীগ্রাম বা কাঁথি কিছুই চিনতেন না। মেদিনীপুরের যেখানেই তিনি দাঁড়াবেন, সেখানেই তাঁকে হারাব।”

শিশির অধিকারীর এই মন্তব্যে কার্যত রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে।

অন্যদিকে এই চ্যালেঞ্জকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি-র পুত্র এবং তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরি কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “শিশিরবাবুর বয়স হয়েছে, তাই বোধহয় সব ভুলে যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় তাঁর পরিবার বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছে। এখন স্মৃতিশক্তি হারানোর ফলে উল্টোপাল্টা কথা বলছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের নেত্রী।”

সব মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে ‘অধিকারী বনাম তৃণমূল’ লড়াই যে আগামী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তমলুকের এই সভা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *