SIR ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন

নতুন দিল্লি: ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজের বক্তব্য পেশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, বর্তমান পদ্ধতিতে ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে একাধিক বাস্তব ও প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পর বহু মহিলা শ্বশুরবাড়িতে চলে যাওয়ার কারণে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এটিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলা হলেও, এর ফলে প্রকৃত ভোটাররা তালিকার বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ অনুসারে আধার কার্ড গ্রহণের কথা থাকলেও, তা বাস্তবে নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অন্য নথি চাওয়া হচ্ছে, যা নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যে যেখানে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও জাতি শংসাপত্র বৈধ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, চারটি রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন থাকলেও কেন ২৪ বছর পর হঠাৎ করে SIR প্রক্রিয়া শুরু করা হল এবং কেন তিন মাসের মধ্যে এই সংশোধন সম্পন্ন করার তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে।

আদালতে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং বহু মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই ধরনের প্রক্রিয়া অসমসহ অন্যান্য রাজ্যে কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, SIR মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, অথচ সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের কাছে আপত্তি বা আবেদন জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

এছাড়াও তিনি আদালতে জানান, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে, যা অন্য কোনও রাজ্যে করা হয়নি। তাঁর মতে, এই বিষয়টিও প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *