এসআইআর-এর চাপেই বিপর্যয়! বিএলও-র মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ

এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের চাপে একের পর এক বিএলও-র মৃত্যুর অভিযোগে ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ উঠছে, পরিকল্পনাহীনভাবে এসআইআর চালানোর ফলেই মানসিক ও শারীরিক চাপে ভেঙে পড়ছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ি।বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির করোনেশন ব্রিজ থেকে তিস্তায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বিএলও শ্রবণ কাহার। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের ক্ষোভ উগরে দেন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁদের দাবি, কোনও রকম প্রস্তুতি বা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াই এসআইআর-এর কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিএলও-র মৃত্যু হলেও ক্ষতিপূরণ বা দায় স্বীকারের প্রশ্নে এখনও নীরব নির্বাচন কমিশন—এমনই অভিযোগ।শিলিগুড়ির এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস ধিক্কার মিছিলের ডাক দিয়েছে। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছেন, মৃত বিএলও-র শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর জেলাজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হবে।এদিকে শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাতেও বিএলও-র আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, রঞ্জন সরকার, সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, দিলীপ দুগ্গার-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।অন্যদিকে, মৃত বিএলও শ্রবণ কাহারের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন মেয়র। মৃতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর লাগাতার চাপ ও অতিরিক্ত কাজের বোঝাই তাঁর স্বামীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।শুক্রবার সকালে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ওয়ার্ড তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠক। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এসআইআর-এর কাজের চাপে পড়ে যেভাবে একের পর এক বিএলও-র মৃত্যুর খবর আসছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *