বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের অগস্টের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই একাধিক আইনি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে একটি খুনের মামলাও রয়েছে। ফলে দেশে ফেরা ও জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন—দুই নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
তবে সেই জটিলতার মাঝেও নতুন করে আশার সুর শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শাকিবকে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলির নথিপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—আইনি জট যত দ্রুত সম্ভব মিটিয়ে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে আবার জাতীয় দলে দেখা।
শাকিব শেষবার বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে কানপুর টেস্টে। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে দেখা না গেলেও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অনুপস্থিতি যে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, তা পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে।
শাকিব ছাড়া বাংলাদেশ ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ৭টিতে, হার ১৭টি, একটি ম্যাচ ফলহীন। দলের এই পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে অধিনায়ক, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডের উপর।
ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, শাকিবের সঙ্গে আবার মাঠ ভাগ করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাকিস্তান সিরিজে শাকিব খেললে দল আরও শক্তিশালী হবে।
আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান। বিসিবি চাইছে, ঘরের মাঠে অন্তত একটি সিরিজে শাকিবকে ফেরানো হোক। একইসঙ্গে বড় লক্ষ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে র্যাঙ্কিং উন্নত করতে হবে। কাট-অফের আগে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে ২০-২৩টি ওয়ানডে ম্যাচ। নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ একাধিক শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে টাইগারদের।
ক্রিকেট মহলের মতে, শাকিবের অভিজ্ঞতা, মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং এবং বাঁহাতি স্পিন—সব মিলিয়ে তিনি এখনও ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন। তাই আইনি জট কাটলেই খুব দ্রুত আবার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটারকে।
সব মিলিয়ে, এখন নজর দুই দিকে—আইন ও ক্রিকেট। সিদ্ধান্ত যেদিকেই যাক, শাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে।
