এ ভাবেও ফিরে আসা যায়। কয়েক দিন আগেও যাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল বেঞ্চেই বসে শেষ হবে বিশ্বকাপ, সেই সঞ্জু স্যামসনই ভারতকে তুলে দিলেন সেমিফাইনালে। ইডেন গার্ডেন্সে তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারাল ভারত। ৫০ বলে ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সঞ্জু।
১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশনের দ্রুত উইকেট চাপে ফেলে দেয় দলকে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কিন্তু অন্য প্রান্তে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সঞ্জু।
পাওয়ার প্লে পেরোনোর পর ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। হিসেবি ব্যাটিং, নিখুঁত শট নির্বাচন এবং চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতায় ধীরে ধীরে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তিলক বর্মার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে জয়ের ভিত তৈরি করেন সঞ্জু।
শেষ ছ’ওভারে যখন দরকার ছিল ৬০ রান, তখনও কোনও তাড়াহুড়ো করেননি ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। প্রথম দুই বলেই ছক্কা ও চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন সঞ্জু। মাত্র ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও তাঁর ইনিংস কার্যত ম্যাচ জেতানো মাস্টারক্লাস।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রস্টন চেজ, শিমরন হেটমায়ার, রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডারের ইনিংসে বড় স্কোর দাঁড় করায় ক্যারিবিয়ানরা। তবে জসপ্রীত বুমরাহর জোড়া আঘাত ম্যাচে ভারতকে ফিরিয়ে আনে।
এই জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়ল। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করার রেকর্ড ভেঙে দিল সূর্যকুমার যাদবের দল। পাশাপাশি ২০১৬ সালের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের বদলাও নিল ভারত।
তবে জয় এলেও চিন্তা রয়ে গেল। স্পিন বোলিং, ফিল্ডিংয়ের ভুল এবং অভিষেক শর্মার ফর্ম সেমিফাইনালের আগে ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ—ইংল্যান্ড।
