আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শুক্রবার প্রথম চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি-র বিশেষ আদালতে এই চার্জশিটে নাম রয়েছে আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার।
এই মামলার সূত্রপাত হয় আর জি কর কাণ্ডের সময়। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইডি তদন্তের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও তদন্ত শুরু করে।
🔍 একাধিক জায়গায় তল্লাশি, ধারাবাহিক গ্রেপ্তার
তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি আধিকারিকরা নিউটাউনে সন্দীপ ঘোষের পৈতৃক ভিটে, টালায় চন্দন লৌহের বাড়ি, কালিন্দীর একটি ওষুধের দোকান-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান। এরপর ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার করা হয় সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরাকে। জানা গিয়েছে, বিপ্লব ও সুমন এই কাণ্ডে ভেন্ডর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে এই মামলায় শেষ গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষের নিরাপত্তারক্ষী আফসার আলি। মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
⚖️ হাই কোর্টের ভর্ৎসনার পর চার্জশিট
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই আর্থিক দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল ইডিকে।
হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তখন মন্তব্য করেছিলেন,
“ইডি চার্জশিট দেয় না, বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করে না।”
সেই মন্তব্যের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে আজ, শুক্রবার প্রথম চার্জশিট পেশ করল ইডি, যা এই মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
🚨 হুইসল ব্লোয়ার আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
এদিকে, এই মামলায় নতুন মোড়। শুক্রবারই ‘হুইসল ব্লোয়ার’ আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিবিআই আদালত। বিচারক তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন নজর, এই পরোয়ানার ভিত্তিতে ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে কি না।
সব মিলিয়ে, আর জি কর দুর্নীতি মামলা নতুন করে গতি পেল প্রথম চার্জশিট পেশের মাধ্যমে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
