রায়পুরে সিউয়ার ট্যাঙ্কে মর্মান্তিক মৃত্যু: নিরাপত্তাহীন কাজে প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের

রায়পুর, ছত্তীসগড়: ছত্তীসগড়ের রাজধানী রায়পুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনজন সাফাইকর্মী। শহরের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, রামকৃষ্ণ হাসপাতালের সিউয়ার ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ ফুট গভীর ট্যাঙ্কে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল। সেই সময় তিনজন শ্রমিককে ট্যাঙ্কের ভিতরে নামানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, কাজের সময় তাঁদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন গ্যাস মাস্ক, অক্সিজেন সিলিন্ডার বা সেফটি কিট দেওয়া হয়নি। ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। মৃত শ্রমিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বিধি মানা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

ঘটনার পর রায়পুর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভারতে সিউয়ার ও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের সময় শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। বহু ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ বছরে এই ধরনের কাজে অন্তত ৬২২ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও আইন অনুযায়ী এই ধরনের কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে, বাস্তবে তার প্রয়োগ প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে হলে কঠোরভাবে নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

রায়পুরের এই ঘটনা আবারও দেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থার এক করুণ চিত্র সামনে তুলে ধরল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *