লোকসভায় অচলাবস্থার পর আলোচনায় অংশ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী এবং এতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাষণে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার “দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে” এবং মার্কিন পণ্য প্রবেশের ফলে ভারতীয় কৃষকদের জীবিকা বিপদের মুখে পড়বে। তাঁর কথায়, এটি এক ধরনের “সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ”। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
রাহুল আরও বলেন, যদি ‘ইন্ডিয়া’ জোট সরকারে থাকত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারতকে সমমর্যাদার দেশ হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানানো হত। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে ঢুকলে দেশের কৃষিক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পও চাপে পড়বে।
ভাষণের শেষে তিনি পুনরায় অভিযোগ তোলেন যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
রাহুল গান্ধীর ভাষণের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, “ভারতকে কেউ বিক্রি করতে পারে না” এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দেশকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শক্তিশালী নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং দেশ উন্নতির পথে এগোচ্ছে।
রিজিজুর দাবি, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলনেতা বক্তব্য রেখে মন্ত্রীর জবাব শোনার জন্য থাকেন না।
বিজেপির তরফে আরও অভিযোগ করা হয়, সংসদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ড নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। দলীয় মুখপাত্রের বক্তব্য, রাহুল গান্ধীর ভাষা ও আচরণ সংসদের পরিবেশের পক্ষে সমীচীন নয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক যে আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, তা স্পষ্ট।
