বহিরাগত এনে পূর্বপরিকল্পিত হিংসা মুর্শিদাবাদে, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সোমবার মুর্শিদাবাদ পৌঁছে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)। তিনি বলেন, হিংসার যে ঘটনা ঘটেছে তা পূর্বপরিকল্পিত। বাইরে থেকে লোক এনে ধর্মের নামে কেউ কেউ ভুল কথা প্রচার করছে। তার জন্য মানুষ প্ররোচিত হয়েছে। সেই কারণেই এমন ঘটনা। মমতা স্পষ্ট জানান, মুর্শিদাবাদের প্রকৃত তথ্য তাঁর কাছে আছে। দ্রুত সত্য সামনে আসবে।

তিনি বলেন, “কয়েকজন ধর্মীয় নেতা সেজেছে। পালে বাঘ না পড়লেও বাঘ, বাঘ বলে চিৎকার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়। এরা গৃহশত্রু। আমি সকলকে মিত্র ভাবি। আমার কোনও শত্রু নেই। কিন্তু অশান্তি যারা করে তাদের আমরা মিত্র ভাবি না। মনে রাখতে হবে, মুর্শিদাবাদের ইতিহাস আছে। এটা বাংলার রাজধানী ছিল।” এরপরই ধর্মীয় নেতাদের এক তিরে নিশানা করেন মমতা বললেন, “গণ্ডগোল কারা করিয়েছেন, সবাই জানে। এরা নাকি ধর্মের নেতা! মুর্শিদাবাদে কী হয়েছিল আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। তবে আর কিছু প্রমাণ হাতে আসবে। তারপর সব সকলের সামনে তুলে ধরব।”

মমতার অভিযোগ, ”একেবার পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটনা হয়েছে। ধর্মের নামে কিছু বহিরাগতরা ভুল কথা ছড়িয়েছে। আর কিছু লোক প্ররোচিত হওয়ার ফলে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর গন্ডগোল লেগেছে।” মমতা স্পষ্ট জানান, ” বাংলার মানুষ এসব বরদাস্ত করবে না।”

মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে জাফরাবাদে নিহত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবার-সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু বিজেপি নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁদের জেলা থেকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে নিশানা করে মমতা বলেন, ”আমি ভেবেছিলাম ওদের সঙ্গে কথা বলব কিন্তু তা তো হচ্ছে না। বিজেপি ওদের সরিয়ে নিয়েছে। এটা কি অপহরণের ঘটনা নয়? আমরা এসে ক্ষতিপূরণেরই টাকা দিতাম। তার আগেই তুলে নিয়ে চলে যাওয়া হল।” এর পরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ”কেন এই লুকোচুরি? কী আড়াল করার চেষ্টা?” এরপরেই তিনি স্পষ্ট জানান, “সাম্প্রদায়িক অশান্তি যারা করে, আমরা তাঁদের ঘৃণা করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *