নিজস্ব সংবাদদাতা ,জয়নগর : জয়নগরে দলের বিধায়কের বদল চেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো জয়নগর বিধানসভা এলাকায়। সামনে বিধানসভার নির্বাচন।ইতিমধ্যে রাজ্যের অন্তর্বতী বাজেট পেশ হয়ে গেছে। সেখানে লক্ষ্মীর ভান্ডার, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়ারী, সিভিক ভলান্টিয়ারদের টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।ভোট মুখী বাজেট বলে অনেকে মনে করছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হবে। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে। তবে ২০১১ সালে জয়নগর বিধানসভা তৃনমূল কংগ্রেসের জোট শরিক হিসাবে এসইউসিআই-এর বিধায়ক ছিল। আর ২০১৬ ও ২০২১ সালে দু’বার বিধায়ক হন তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বনাথ দাস। জয়নগরে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। তারই মাঝে বৃহস্পতিবার রাতে জয়নগর বিধানসভার গড়দেওয়ানি থেকে পদ্মেরহাট ১২টি পঞ্চায়েত ও একটি পুরসভার সব জায়গায় বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের বদল চেয়ে পোস্টার পড়ল। একাধিক পোস্টারে একাধিক ভাবে বিধায়ক বদলের দাবি জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সৌজন্যে। লেখা আছে দূর্নীতি গ্রস্থ বিধায়ক, হিটলার বিধায়ক, নিজের আত্মীয় পরিজনদের বিভিন্ন পদে বসিয়েছে, টাকার বিনিময়ে প্রধান উপ-প্রধান, সমিতির সদস্য, পঞ্চায়েত সদস্য করেছে অযোগ্যদের, তাই এই বিধায়কের বদল চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেছে তৃণমুল কংগ্রেসের কর্মীরা। আর এই পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো জয়নগরে। প্রকাশ্যে চলে এলো আবার গোষ্ঠী কোন্দল।
বকুলতলা ও জয়নগর থানা এলাকায় অশান্তি এড়াতে জয়নগর ও বকুলতলা থানার পুলিশ ৬ জন কে আটক করে বৃহস্পতিবার শেষ রাতে। তার মধ্যে ছিল জয়নগর এক নং তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের সভাপতি অরুণ নস্কর ও। শুক্রবার বেলায় তাদেরকে অবশ্য ছেড়ে দেয় পুলিশ। তাদেরকে ছাড়াতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের হাসনাবানু শেখ, প্রাক্তন সেনা কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সালাউদ্দিন সেখ সহ একাধিক তৃনমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে জয়নগর থানায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ভাঙিয়ে বিধায়কের নামে যে পোস্টার পড়েছে সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আসেন জেলা পরিষদ সদস্য তথা জয়নগরের সাংসদ প্রতিনিধি খান জিয়াউল হক, জয়নগর এক নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঋতুপর্ণা বিশ্বাস।
জেলা পরিষদ সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের খান জিয়াউল হক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম করে বিরোধীরা ও এ ধরনের কাজ করে থাকতে পারে। তবে বিধায়ক পছন্দ না হলে তা দলের ভিতরে আলোচনা হতে পারে। এব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তারা বুঝবেন। দলকে বদনাম করার চক্রান্ত এটা। আমি চাই এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর বলেন, তৃণমূল দলটাই দূর্নীতিগ্রস্থ, আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছিলাম এবার ওদের দলের কর্মীরা প্রকাশ্য বলছে। এটাই তো হওয়ার ছিল। তাই জয়নগরে শুধু বিধায়ক বদল নয় পুরো তৃণমূল দলটার পরিবর্তন চাই। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য অপূর্ব প্রামানিক বলেন, শুধু জয়নগর নয় সারা রাজ্য থেকে তৃণমূলের বদল হওয়ার দরকার। ওদের গোষ্ঠী কোন্দল এতটাই প্রকট তা আবার প্রকাশ্যে চলে এল। এ দলটা রাজ্যকে শেষ করে দিলো।
এবিষয়ে জয়নগরের বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বনাথ দাসের কাছ থেকে কোনও উওর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উওেজনা রয়েছে জয়নগরে।
