ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের সাম্প্রতিক ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। গত ১০ মাসে পরিচালিত তিনটি সমীক্ষার মধ্যে সর্বশেষ এই রিপোর্টে বিএনপি এবং তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

🔴 তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় উল্লম্ফন
সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে তারেক রহমানের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণ—এই দুই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক আবহে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, দলকে সংগঠিত করার বার্তা এবং জনসংযোগমূলক কৌশলই তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
🔴 পিছিয়ে জামায়াতে ইসলামী
এই সমীক্ষায় অন্য দলগুলির অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দলটির আমির শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান মাত্র ২২.৫ শতাংশ মানুষ। ফলে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

🔴 ভোটারদের মন বদলের ইঙ্গিত
সমীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙনের ইঙ্গিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের একাংশ ভোটার বর্তমানে বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী রাজনীতিতে বিএনপির সক্রিয়তা এবং তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন নেতৃত্বের ধারণাই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
🔴 কী বলছে সমীক্ষা
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের দাবি অনুযায়ী, এই সমীক্ষা গত ১০ মাস ধরে ধাপে ধাপে পরিচালিত হয়েছে এবং সর্বশেষ জরিপে জনমতের স্পষ্ট পরিবর্তন ধরা পড়েছে। সমীক্ষা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মুখ।
