নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত এসএসসি মামলায় দীর্ঘ সময় জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক মহলে ফের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই ইঙ্গিত এবার বাস্তবে রূপ নিল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে জায়গা পেলেন বেহালা পশ্চিমের এই বিধায়ক। জেল থেকে মুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়াকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কোন কোন কমিটিতে জায়গা পেলেন?
বিধানসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী কমিটির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সেই তালিকাতেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে বিধানসভার লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই কমিটিগুলির মাধ্যমে বিধানসভায় প্রশাসনিক তদারকি ও আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবেন তিনি।
এতদিন কেন কমিটিতে ছিলেন না?
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কার্যরত মন্ত্রী সাধারণত সংসদীয় স্থায়ী বা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হতে পারেন না। পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। সেই কারণেই বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এতদিন কোনও কমিটিতে তাঁর নাম ছিল না।
২০২২ সালে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয় এবং দল থেকেও সাময়িকভাবে দূরে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি কোনও সরকারি দফতরের দায়িত্বে নেই। ফলে বিধায়ক হিসেবে সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে আর কোনও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা রইল না।
রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন
কারামুক্তির পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভার অন্দরে নিজের দায়িত্ব পালন করতে চান। ভোটে জিতে আসা বিধায়ক হিসেবে সংসদীয় কাজকর্মে ফের সক্রিয় হওয়ার যে ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যত তারই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে তাঁকে আবার রাজনৈতিক মূলধারায় ফেরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হল।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া মিশ্র
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শাসক দলের একাংশের দাবি, এটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। একজন বিধায়ক হিসেবে কমিটির সদস্য হওয়া তাঁর অধিকার।
অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন, যাঁকে ঘিরে এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে ফের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে?
সব মিলিয়ে, জেল ও মন্ত্রিত্ব হারানোর পর দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন আবার বিধানসভার সক্রিয় সংসদীয় ভূমিকায়। বিতর্কের মধ্য দিয়েই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
