জেডিইউ-তে যোগ দিলেন নীতীশপুত্র নিশান্ত কুমার, বিহারের রাজনীতিতে জোর জল্পনা

দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার খুব শিগগিরই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। রবিবার সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হল। ৫০ বছর বয়সী নিশান্ত কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এ যোগ দিলেন।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ঠিক সেই সময়েই দলে যোগ দিলেন তাঁর ছেলে নিশান্ত।

অনুষ্ঠান শেষে নিশান্ত বলেন,

“আমি দল ও জনগণের আস্থা পূরণ করতে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করব।”

নিশান্তই কি বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

৭৫ বছরের নীতীশ কুমার ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—তিনি রাজ্যসভায় গেলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন?

দলের একাংশের দাবি, বাবার জায়গাতেই রাজনৈতিক দায়িত্ব নিতে পারেন নিশান্ত কুমার। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি তিনি। নিশান্ত বলেন,

“আমি একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলের জন্য কাজ করার চেষ্টা করব। আমার বাবা রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আমরা তাঁর নির্দেশনায় কাজ করব।”

জেডিইউ-র প্রবীণ নেতারাও নিশান্তের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দলীয় কর্মীদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার প্রতিফলনই নিশান্তের এই সিদ্ধান্ত

এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন

৫০ বছরের নিশান্ত কুমার এখনও অবিবাহিত। তিনি রাঁচির বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং পরে একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও করেছেন।

এতদিন পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে দেখা যায়নি। যদিও জেডিইউ-র একাংশ বহুবার দাবি করেছে, নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হতে পারেন নিশান্তই। তবে এ বিষয়ে আগে কখনও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি বাবা-ছেলে কেউই।

এনডিএ জোটে বড় দায়িত্ব পেতে পারেন

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ক্ষমতা ভাগাভাগির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন নিশান্ত। এমনকি ভবিষ্যতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী বা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীও হতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে।

আরজেডির কটাক্ষ

এদিকে নীতীশ কুমারের রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডি জেডিইউ ও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।

আরজেডির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনৈতিকভাবে নীতীশ কুমারকে ‘অপহরণ’ করেছেন। এমনকি নিশান্ত মুখ্যমন্ত্রী হলে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ উঠবে, যার বিরোধিতা প্রকাশ্যে করে থাকে বিজেপি।

এখন দেখার বিষয়, বিহারের রাজনীতিতে নিশান্ত কুমারের আগমন নতুন কী সমীকরণ তৈরি করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *