২০২৫ সালে জেন জি–র বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন কেপি শর্মা ওলি। সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নেপালে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরপর ব্যালট বাক্স সংগ্রহের পরই শুরু হবে ভোট গণনা।
নেপালের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ নাগরিক এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ১৬৫টি আসনের জন্য ৩,৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় ১১০টি আসনের জন্য আরও ৩,১৩৫ জন প্রার্থী লড়াই করছেন।
দুই ব্যবস্থার সংমিশ্রণে নেপালের নিম্ন সংসদীয় কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ২৭৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার থেকে দেশে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মোট ১০,৯৬৭টি ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
নির্বাচনের নিরাপত্তার কারণে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাচ্যুত কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বে সিপিএন-ইউএমএল আবার শক্তিশালীভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে রবি লামিছানে ও বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবং গগন থাপার নেতৃত্বে সংশোধিত নেপালি কংগ্রেস তরুণ প্রজন্মের ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে।
আরএসপি কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র ব্যালেন শাহ (৩৫)-কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস গগন থাপা (৪৯)-কে সামনে এনেছে। সিপিএন-ইউএমএল কেপি শর্মা ওলি (৭৫)-কেই প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে।
এখন নজর ভোট গণনার দিকে। শেষ পর্যন্ত নেপালের নাগরিকরা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন, সেটাই দেখার।
জেন জি বিক্ষোভের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী পদে জোর লড়াই
