জেন জ়ি আন্দোলনের পর নেপালে বড় পালাবদলের ইঙ্গিত, ভোটগণনায় এগিয়ে বলেন্দ্র শাহের দল

জেন জ়ি আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের জেরে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে পতন হয়েছিল কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের। তার পাঁচ মাস পর হওয়া সাধারণ নির্বাচনে ভোটবাক্সে নিজেদের মতামত জানাল নেপালের জনগণ। ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে ইঙ্গিত মিলছে, হিমালয়ের কোলের এই দেশে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থান ঘটতে পারে।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোটগণনায় এগিয়ে রয়েছে কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ৩৫ বছর বয়সি বলেন্দ্র শাহের। নির্বাচনের আগে তাঁর জনসভাগুলিতে বিপুল মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিশেষ করে জেন জ়ি ভোটারদের বড় অংশই তাঁকে সমর্থন করছে বলে জানা গেছে।

ঝাপা কেন্দ্র থেকে ৭৪ বছর বয়সি কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভোটগণনায় ওই আসনেও তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, বলেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিও ভোটগণনায় ভালো ফল করছে। ইতিমধ্যেই একটি আসনে জয় পেয়েছে দলটি এবং আরও ৪৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। জেন জ়ি বিক্ষোভের দুই মাস পর ডিসেম্বরে এই দলে যোগ দেন বলেন্দ্র শাহ। দলের আরেক পরিচিত মুখ রবি লামিছানেও রয়েছেন এই দলে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেপি শর্মা ওলির সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে যে জেন জ়ি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখানে তরুণদের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন বলেন্দ্র শাহ। অনেকেই তখনই তাঁকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে মত প্রকাশ করেছিলেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটদানের হার প্রায় ৬০ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রামপ্রসাদ ভাণ্ডারী জানিয়েছেন, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

নেপালের পার্লামেন্টের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে মোট ২৭৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সদস্য সরাসরি নির্বাচিত হন এবং বাকি সদস্যদের নির্বাচন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে।

উল্লেখ্য, গত বছর তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত নেপালে জনরোষ বাড়তে থাকে। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে সেই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং ভেঙে দেওয়া হয় তাঁর সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *