ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশই তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতেই হঠাৎ মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে হাজির হন তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। সেখানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
সূত্রের খবর, প্রায় আধঘণ্টা ধরে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলেন মুকুটমণি। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এটি শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।
কী বললেন মুকুটমণি?
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে মুকুটমণি অধিকারী বলেন,
“নতুন গাড়ি কিনেছি। পুজো দিতে এসেছি। মধুপর্ণা ঠাকুরের বাড়িতেও গিয়েছিলাম। জ্যেঠু, জেঠিমার সঙ্গেও দেখা করেছি। ঠাকুরবাড়িতে যারা ছিলেন, সবার সঙ্গেই দেখা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন মুকুটমণি। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন তিনি।
ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই সফর ঘিরে দলবদলের জল্পনাও শুরু হয়েছে।
কী বললেন শান্তনু ঠাকুর?
শান্তনু ঠাকুরের দাবি,
মুকুটমণি নতুন গাড়ির পুজো দিতে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন। সেই সময় সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন,
“দলে ফেরা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। বিজেপিতে ফিরবেন কি না, সেটা উনিই ভালো বলতে পারবেন।”
মধুপর্ণা ঠাকুরের পাল্টা দাবি
তবে মুকুটমণির দাবি খারিজ করে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর। তাঁর কথায়,
“উনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। আমাদের বাড়িতে আসেননি। ঠাকুরবাড়ি বলে সবাই আসতেই পারেন, কিন্তু মিডিয়ার সামনে মিথ্যে কথা বলার কী দরকার?”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা তৃণমূল করি, উনিও তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের দিকে না এসে বিজেপির দিকে গিয়েছেন, এটাও সন্দেহজনক।”
SIR ইস্যুর মাঝেই নতুন বিতর্ক
উল্লেখ্য, SIR নিয়ে মতুয়াদের ভোটাধিকার প্রশ্নে তৃণমূলের তরফে লাগাতার সরব হয়েছেন মুকুটমণি। সেই আবহেই তাঁর ঠাকুরবাড়ি যাওয়া এবং শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে
