কল্যাণীর মাঠে মঙ্গলবার কার্যত একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মহম্মদ শামি। বাংলার করা ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু-কাশ্মীর প্রথম ইনিংসে অল আউট হল ৩০২ রানে। ফলে ২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেল বাংলা। আর এই সাফল্যের নায়ক শামি—২২.১ ওভারে ৯০ রান দিয়ে একাই তুলে নিলেন ৮টি উইকেট।
দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২০৫। ক্রিজে ছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ও আবিদ মুশতাক। তৃতীয় দিনের সকালে আর জমতে দিলেন না শামি। কানহাইয়াকে ২৯ ও আবিদকে ২৭ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর বংশরাজ শর্মাকেও সাজঘরে পাঠান বাংলার অভিজ্ঞ পেসার।
২৩১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জম্মু-কাশ্মীর। তখন মনে হচ্ছিল, সহজেই লিড পাবে বাংলা। কিন্তু আকিব নবি ও যুদ্ধবীর সিংহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। দু’জনের মধ্যে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়া আকিব ব্যাট হাতেও লড়াই চালিয়ে যান।
ম্যাচ যখন অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে, তখনই আবার আক্রমণে শামি। ৩৩ রানের মাথায় যুদ্ধবীর সিংহকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর ৪২ রানে আকিব নবিকেও আউট করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩০২ রানে থামে জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংস।
প্রথম ইনিংসে শামির বোলিং ফিগার—২২.১ ওভার, ৯০ রান, ৮ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে ৩ উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় দিনের সকালে বাকি ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়লেও তাঁর পারফরম্যান্স যেন নির্বাচকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—শামির বল এখনও কথা বলে।
খেলা শেষে সাজঘরে ফেরার সময় গোটা বাংলা দল উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দেয় তাঁকে। এই পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় দলে ফেরার দাবি আরও জোরালো করলেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
