ভোটের আগে ইস্তেহার প্রকাশ করে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক দাবি ও নতুন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজও দ্রুত শেষ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জলের ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আগে যেখানে মাত্র ২ লক্ষ বাড়িতে জল পৌঁছত, এখন তা বেড়ে ১ কোটিতে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও একাধিক কথা বলেন তিনি। বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার বকেয়া অংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন এবং জানান, এই সুবিধা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
যুব সমাজের জন্যও বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২ কোটি কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, মেধাশ্রী, যুবশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্প চালু থাকবে যতদিন না তারা চাকরি পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লক ও শহরে নিয়মিত মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন তিনি। ৩০,০০০ কোটি টাকার কৃষি বাজেটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, কৃষক ও ভূমিহীন পরিবারদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। আলু, চালসহ বিভিন্ন ফসল সংগ্রহ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক সরকারি স্কুলে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ই-লার্নিং এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হবে।
শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক দাবি করেন তিনি। জঙ্গলমহল, দেউচা পাচামি, শালবনি-সহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বিনিয়োগ ও শিল্প প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে MSME খাতে রাজ্যের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পেনশন এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন জেলা, ব্লক ও পুরসভা তৈরি করে পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইস্তেহার প্রকাশের মাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির বার্তা তুলে ধরে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ময়দানে বড় বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
