সিঙ্গুরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস মমতার, ৭৭ একরে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ঘোষণা

সিঙ্গুর: ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘোরানো সিঙ্গুর ফের উঠে এল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। কয়েক দিন আগেই এই সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শিল্প নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও দিশা না মেলায় প্রশ্নের মুখে পড়ে কেন্দ্র। তার ঠিক ১০ দিন পর সোমবার সিঙ্গুরে সভা করে শিল্প ও কর্মসংস্থানের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গুরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, যাঁরা একসময় জমি হারিয়েছিলেন, আজও তাঁরা নিয়মিত মাসিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। পাশাপাশি খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। ট্রমা কেয়ার সেন্টার, কৃষিবাজারের মতো পরিকাঠামোও গড়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হয়েছে। মোট ২৮টি প্লটের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫টি বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এতে বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষির পাশাপাশি শিল্পও চলবে—কৃষিজমি দখল করে নয়।

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এসএআইপি প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমিতে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। মমতার দাবি, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থা এখানে বড় ওয়্যারহাউস তৈরি করছে, যার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করে দেখাই।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে এসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিল্পায়নের নতুন দিশার কথা বললেও, সিঙ্গুরে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি। টাটারা ফিরবে কি না, বড় কারখানা হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে সিঙ্গুরে শিল্পের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। কারখানাও হয়নি, আবার বহু জমিতে কৃষিকাজও আগের মতো হয়নি—এই আক্ষেপ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরেও শিল্প নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না মেলায় স্থানীয় কৃষকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ধনঞ্জয় ধারা নামে এক কৃষক বলেন, “পাল্টানোর কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু কী পাল্টাবে—জমি, না মানুষ—তা আমরা বুঝতে পারিনি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *