বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট। বুকিং করার পরও দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও অনেক গ্রাহক বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ফলে বাধ্য হয়ে সকাল থেকেই গ্যাস গোডাউনের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিষ্ণুপুর শহরের হাউসিং সংলগ্ন এলাকার একটি গ্যাস গোডাউনের সামনে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন গ্রাহকেরা। সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে অনেককেই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি ঘিরে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।
বুকিং করেও মিলছে না হোম ডেলিভারি
সাধারণত বুকিং করার কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাহকের বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পৌঁছে যায়। কিন্তু বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক গ্রাহকের দাবি, দু’সপ্তাহ আগে বুকিং করেও এখনও সিলিন্ডার হাতে পাননি।
রান্না বন্ধ, হোটেলে খেতে বাধ্য পরিবার
গ্যাসের সিলিন্ডার না পাওয়ায় বহু পরিবারের রান্না কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, বাড়িতে ছোট ছোট সন্তান থাকায় বাধ্য হয়ে হোটেলে খেতে হচ্ছে।
আবার কেউ কেউ আগে কেরোসিনে রান্না করতেন, কিন্তু এখন কেরোসিনও শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই ২–৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিলিন্ডার পাওয়ার অপেক্ষা করছেন।
হোটেলগুলিতেও গ্যাসের টান
এই সঙ্কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হোটেল ও খাবারের দোকানগুলিতেও। অনেক হোটেলে গ্যাসের মজুত কমে আসছে বলে জানা গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



