রাজ্যে LPG বা গ্যাসের সঙ্কটের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহণেও। শুধু রান্নাঘরেই নয়, এবার অটোর ভাড়াতেও লাগল জ্বালানির আঁচ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক রুটে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অটোর ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, গড়িয়া–বারুইপুর, সোনারপুর–গড়িয়া, বারুইপুর–জুলপিয়া, বারুইপুর–দক্ষিণ বারাসত-সহ একাধিক রুটে হঠাৎ করেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কোথাও ৫ টাকা, কোথাও ১০ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
প্রতিবাদ করলেই যাত্রীদের বলা হচ্ছে— জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বাড়বে। রাতারাতি ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
যাত্রীদের ক্ষোভ
জুলপিয়া রুটের যাত্রী সবিতা পরামাণিক জানান, আগে যেখানে ১৭ টাকা ভাড়া দিতে হত, বুধবার থেকে সেখানে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।
অন্য এক যাত্রী বলাই দাস-এর অভিযোগ, জুলপিয়া–আমতলা রুটে আগে ১৫ টাকা ভাড়া ছিল, এখন ২৫ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
কী বলছেন অটোচালকরা
অটোচালকদের একাংশ স্বীকার করেছেন যে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং পাম্পে পর্যাপ্ত গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
জুলপিয়া–আমতলা রুটের অটোচালক আনন্দ সিংহ বলেন,
“আমরা ইচ্ছাকৃত ভাড়া বাড়াতে চাই না। আগে ৭০–৭৫ টাকা লিটার গ্যাস কিনতাম। এখন কেউ ১২০, কেউ ১৩০, আবার কেউ ১৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।”
কমে গেছে অটোর সংখ্যা
চালকদের দাবি, জ্বালানির সঙ্কটের কারণে অনেক রুটে অটোর সংখ্যাও কমে গিয়েছে। গ্যাস নিতে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ফলে অনেক চালক সাময়িকভাবে অটো চালানো বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে অটো ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া ভাড়া বাড়ানোকে তাঁরা সমর্থন করেন না। তবে বাস্তবে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ফলে একদিকে বেড়ে চলা ভাড়া, অন্যদিকে কমে যাওয়া অটোর সংখ্যা—এই দুই সমস্যায় নাকাল হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।
