লাল দুর্গের ‘ভীষ্ম’-এর বাড়িতে পদ্ম প্রার্থী—২০২৬ ভোটের আগে সৌজন্যের রাজনীতিতে চমক

কুলটির রাজনৈতিক মঞ্চে এদিন দেখা গেল এক বিরল ও চমকপ্রদ সমীকরণ—যা যেন কোনও থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। চিরাচরিত রাজনৈতিক…

1

কুলটির রাজনৈতিক মঞ্চে এদিন দেখা গেল এক বিরল ও চমকপ্রদ সমীকরণ—যা যেন কোনও থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। চিরাচরিত রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির বাইরে বেরিয়ে আসানসোলের কুলটি সাক্ষী থাকল এক সৌজন্যের মুহূর্তের।

বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার পৌঁছে গেলেন বাম আমলের দুঁদে নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রবীণ মুখ তথা ‘কুলটির পিতামহ ভীষ্ম’ মানিক লাল আচার্যের ডিসেরগড়ের বাড়িতে। সঙ্গে ছিল ছিন্নমস্তা মন্দিরের প্রসাদ।
অজয় পোদ্দারের কথায়, “কুলটির উন্নয়নে মানিক বাবুর অবদান অনস্বীকার্য। ওনার মতো অভিজ্ঞ নেতার আশীর্বাদ পাওয়াই আমার পরম প্রাপ্তি।”

একসময় আসানসোল ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি, আর সেই দুর্গের অন্যতম প্রহরী ছিলেন মানিক লাল আচার্য। ১৯৯১ থেকে ২০০১—টানা তিনবারের বিধায়ক তিনি।

এই সাক্ষাতের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস।
২০০৬ সালে এই মানিক লাল আচার্যকেই পরাজিত করেছিলেন তৃণমূলের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়—যিনি আবার একসময় মানিক বাবুরই রাজনৈতিক শিষ্য ছিলেন।
এরপর ২০২১ সালে সেই উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধায়ক হন বিজেপির অজয় পোদ্দার।

২০২৬-এর লড়াইয়ে ছবিটা আরও জটিল। একদিকে মানিকের ঘনিষ্ঠ তথা ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত ভবানী আচার্য ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী, অন্যদিকে তাঁরই বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী।

দীর্ঘ ১০ বছর পর কুলটিতে ফের প্রার্থী দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ঘরের লোক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন বিজেপি প্রার্থীর জন্য মানিক বাবুর দরজা এতটা খোলা?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এ যেন এক অন্য বার্তা—ব্যক্তিগত সম্পর্ক বনাম রাজনৈতিক লড়াই
কুলটির এই ‘গুরু-শিষ্য-প্রতিপক্ষ’ সমীকরণ ২০২৬-এর ভোটে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।