কলকাতার অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণে আশার খবর মিলেছে, তবে চিংড়িঘাটার জট এখনও সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। রেল সূত্রে জানা গেছে, যদি এ মাসের মধ্যেই পুলিশের অনুমতি মেলে কংক্রিট স্ল্যাব বসানোর জন্য, তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেক্টর ৫ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে।
মেট্রো রেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটার ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ ফাঁকা অংশটি পূরণ করা হলে, বেলেঘাটা থেকে সেক্টর ৫ পর্যন্ত পরিষেবা চালুর জন্য প্রায় ৭–৮ মাস সময় লাগতে পারে। বর্তমানে নিউ গড়িয়া (কবি সুভাষ) থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পরিষেবা চলছে।
রেল বিকাশ নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিংড়িঘাটায় কাজ প্রায় এক বছর ধরে থমকে আছে। সমস্যার মূল কারণ হলো, স্ল্যাব বসানোর জন্য টানা দুটি উইকেন্ডে ট্রাফিক ব্লক দরকার, যার অনুমোদন এখনও মেলেনি।
এই বিলম্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ভূমিকা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। আদালত জানিয়েছে, এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অন্তর্ভুক্ত। যদিও রাজ্য সরকার নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কা এবং যানজট বৃদ্ধির কারণ দেখিয়েছিল, আদালত সেই যুক্তি বাতিল করেছে।
চিংড়িঘাটার পাশাপাশি অরেঞ্জ লাইনের অন্যান্য কিছু অংশেও কাজ বাকি রয়েছে। টেকনোপোলিস (নবদিগন্ত), নজরুল তীর্থ এবং চিনার পার্ক সংলগ্ন ভায়াডাক্টের কাজ আংশিকভাবে চলছে, তবে পুরো থমকে থাকার সমস্যা কেবল চিংড়িঘাটাতেই।
বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, চিংড়িঘাটার অনুমোদন মিলে গেলে সেক্টর ৫-এর সঙ্গে শহরের আইটি হাবের সংযোগ দ্রুততর হবে এবং মেট্রো যাত্রীরা সুবিধা পাবে।



