মোবাইল আসক্তি ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ, ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে চলেছে কর্ণাটক

শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি, অনলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।

শুক্রবার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশুদের উপর বাড়তে থাকা মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রথম রাজ্য হবে কর্ণাটক।

এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশ ও গোয়া সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছিল। কর্ণাটকের আইটি ও বায়োটেকনোলজি মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে আগেই বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনেশ গুন্ডু রাও-ও শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিজেপি বিধায়ক সুরেশ কুমারও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে বিতর্ক

শুধু কর্ণাটক নয়, বিশ্বের বহু দেশেই শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই কড়া নিয়ম চালু করেছে। যুক্তরাজ্য ও ফিনল্যান্ডেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রান্স ও স্পেনের কিছু স্কুলে ক্লাসরুমে স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা সহজ সমাধান নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সহজ নয়। ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে কিশোরদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, মনোযোগের ঘাটতি ও পড়াশোনার চাপ বাড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনেক শিশু ও কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলে, যা পরে অপব্যবহার হতে পারে। অনলাইন গ্রুমিং, ডেটা চুরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের অনলাইনে আটকে রাখার মতো ঝুঁকিও বাড়ছে।

তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ পায়।

এই কারণেই অনেক নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল শিক্ষার উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *