তিরুবনন্তপুরম, ৩১ জানুয়ারি:বিশ্বকাপের আগে শেষ মহড়ায় নিখুঁত ছবি আঁকল ভারত। তিরুবনন্তপুরমে নিউজিল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল ৪-১ ব্যবধানে। স্কোরবোর্ডে ভারতের রান ২৭১/৫ (২০ ওভার), জবাবে নিউজিল্যান্ড থামে ২২৫-এ (১৯.৪ ওভার)।

এবার নজর আমেরিকা মিশনে—ওয়াংখেড়েতে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম ম্যাচ, তার আগে ৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি লড়াই।এই ম্যাচেই পরিষ্কার হয়ে গেল দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। ঈশান কিশানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরির পর ওপেনার ও উইকেটকিপার হিসেবে তাঁর জায়গা কার্যত পাকা। ফলে সঞ্জু স্যামসনকে ফের ডাগআউটে বসেই দেখতে হল ম্যাচ। বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে ঈশানের সঙ্গী থাকবেন অভিষেক শর্মা—এটাই এখন পরিষ্কার ইঙ্গিত।

নিউজিল্যান্ডের জবাবি ইনিংসের শুরুটা ছিল ভয় ধরানো। ২৭২ তাড়া করতে নেমে ৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১১৭/১। ফিন অ্যালেন ঝড় তুলেছিলেন—৩৮ বলে ৮০। দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের পার্টনারশিপে মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাতছাড়া হতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা আবারও প্রমাণিত হল। অ্যালেন ফিরে যেতেই ভেঙে পড়ে ইনিংস। এরপর রাচিন রবীন্দ্রর ৩০ আর সোধির ৩৩ ছাড়া বড় রানের দেখা মেলেনি।বোলিংয়ে শেষটা গুছিয়ে দিলেন অর্শদীপ সিং। রিঙ্কুর বলে সোধির ক্যাচ অর্শদীপের হাতে যেতেই কার্যত শেষ লড়াই। চার ওভারে ৫১ রান দিলেও অর্শদীপ তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট। যদিও জসপ্রীত বুমরার চার ওভারে ৫৮ রান কিছুটা চিন্তা বাড়াল—সিরিজ জিতলেও এই ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।

ভারতের ২৭১ রান একসময় কল্পনাতীতই ছিল। পাওয়ার প্লে শেষে স্কোর ছিল ৫৪/২। অভিষেক দ্রুত ফিরে যান, সঞ্জু স্যামসনও ব্যর্থ হন নিজের শহরের মাঠে। গ্যালারিতে তখন শ্মশানের নীরবতা। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের রঙ বদলে দেন ঈশান কিশান ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তাঁরা। ঈশান ছিলেন একেবারে অন্য গ্রহের ব্যাটার—৪৩ বলে ১০৩ রান, ছয়টি চার ও দশটি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ২৩৯.৫৩। এটি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরান, আর সেটাও এল বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ ছিল না।সূর্যও ফর্মে ফেরার বার্তা দিলেন—৩০ বলে ৬৩ রান, চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা। সিরিজের সেরা হওয়ার পর তাঁর ব্যাট যে গরম, তা আরও একবার প্রমাণিত। শেষদিকে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ৪২ রান ভারতকে নিয়ে যায় পাহাড়সম স্কোরে। তাঁর ব্যাট থেকেও আসে একাধিক ছক্কা, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে নিশ্চিতভাবেই।নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সোধির অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ—৩ ওভারে ৪৮ রান। জেমিসন, ডাফিদেরও ছাড়েননি ঈশান। আগের ম্যাচে চোটের জন্য না খেললেও এদিন যেন সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।সব মিলিয়ে তিরুবনন্তপুরমে ভারতের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের বড় ডোজ। সিরিজ ৪-১, আর ভারতের ড্রেসিংরুমে এখন স্পষ্ট বার্তা—এই দল যে কোনও পরিস্থিতিতেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।
