মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ।
ভারত তার প্রয়োজনীয় কাঁচা তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের জ্বালানি বাজারে।
🇮🇳 ভারতে কোথায় রাখা আছে তেল মজুত?
ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (Strategic Petroleum Reserve – SPR) তিনটি প্রধান স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে:
- বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ)
- ম্যাঙ্গালুরু (কর্ণাটক)
- পাদুর (কর্ণাটক)
এই ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারগুলিতে মোট প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন টন কাঁচা তেল মজুত রাখা যায়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই কৌশলগত মজুত প্রায় ৯-১০ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
এছাড়া, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বাণিজ্যিক মজুত মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০ দিনের মতো তেলের জোগান দেশের হাতে থাকে বলে জানানো হয়েছে।
⛽ তেলের দাম কি বাড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
🔎 সরকার কী পদক্ষেপ নিতে পারে?
- কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়া
- আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা
- বিকল্প সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে চুক্তি
পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
