মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। মোদি সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ‘পুস্পক’ এবং ‘পরিমল’ নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ভয়াবহ সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গোটা বিশ্বের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে দেয় ইরান।
তবে সেই সময় রাশিয়া ও চিনের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় ভারতের নামও যুক্ত হল। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে।
যদিও ইজরায়েল, আমেরিকা ও ইউরোপের জাহাজের ওপর এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড ফোর্স।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, একদিন আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে। সেই আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও উঠে আসে সেই বৈঠকে। এর আগেও গত দু’সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার ব্যাকচ্যানেল আলোচনাও হয়েছে। সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই অনুমতি মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সময় ভারত প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়। তবে ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি ইরানের একটি রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত মানবিক সহায়তা দেয়।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতেই আগে একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়, যেখানে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ভারত সরকার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় আরও সক্রিয় হয়।
এই অনুমতির ফলে হরমুজের ওপারে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলি দ্রুত দেশে ফিরতে পারবে এবং দেশের জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
